Bangladesh Community Radio

From WikiEducator
Jump to: navigation, search

বাংলাদেশ কমিউনিটি রেডিও'র হোম পেজ

COMMUNITY RADIO BANGLADESH


Face-smile-big.svg
Smile-hand.jpg
We are trying to develop this page
Anybody can give us advice to upgrade this page. Your advice is always welcome.

Today is : 23, October 2017

Bangladesh
CR.jpg


Road Works.svg এই পৃষ্ঠাটির নির্মাণ কাজ চলছে.
পৃষ্ঠাটির উন্নয়নে আপনার সহযোগিতা কামনা করছি। আপনার ফিডব্যাক দিন Discussion page.

এই পৃষ্ঠাটি ঘন ঘন পরিবর্তন করা হচ্ছে।


এ্যাডভান্সড ট্রেনিং ওয়ার্কশপ অন কমিউনিটি রেডিও প্রোগ্রাম প্রোডাকশন-এর আলোকচিত্র

এ্যাডভান্সড ট্রেনিং ওয়ার্কশপ অন কমিউনিটি রেডিও প্রোগ্রাম প্রোডাকশন

Advance Training Workshop on Communitu Radio Program Production

আয়োজনে : রূপান্তর
সহযোগিতায় : কমনওয়েলথ এডুকেশনাল মিডিয়া সেন্টার ফর এশিয়া- সেমকা
তারিখ : ০৮-১১ জুন ২০০৯
স্থান : হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন কনফারেন্স রুম

অংশগ্রহণকারী:

ক্রমিক নাম প্রতিষ্ঠান মোবাইল নং
০১. শিপু ফরাজী কোস্ট ট্রাস্ট ০১৭২৯-০৪৪৬৬১
০২. এ. কে. এম শহীদুল ইসলাম নলতা হাসপাতাল ০১৭১১-৩৯১৪৫১
০৩. মোঃ আবু আসলাম নলতা হাসপাতাল ০১৭১২-৮২০৫২৬
০৪. জি. এম. মোর্তজা সিসিডি বাংলাদেশ ০১৭১৫-১৩৭৭৮০
০৫. পল্লবী দে সিসিডি বাংলাদেশ
০৬. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সিসিডি বাংলাদেশ ০১৭২০-৫০৩৭৬৭
০৭. আবু হেনা মোস্তফা কামাল সিসিডি বাংলাদেশ ০১৭১৫-৬৩৭৭৮৮
০৮. সাবরিনা শারমিন আরডিআরএস বাংলাদেশ
০৯. মোঃ নূরুন্নবী আরডিআরএস বাংলাদেশ ০১৭১৬-৫৩৬২৯১
১০. মনিরুল প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ০১১৯৭-০৫৭২৮০
১১. মোসাম্মৎ নাহিদা খাতুন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি
১২. বনানী দাশগুপ্ত বাসন্তী রূপান্তর
১৩. সিরাজুস সালিকিন রূপান্তর ০১৮১৬-৭০২৮২৫
১৪. মোঃ মেহেদী হাসান ব্রাক ০১৭১১-৯৮৫৫১০
১৫. মিস জয়নব খাতুন ব্রাক
১৬. ইসরাত জাহান মমতাজ স্টেপস
১৭. সৈয়দ হাফিজুর রহমান বরসা ০১৭১৬-৭০০২৯১
১৮. সুমন গোমেজ রূপান্তর ০১৮১৯-১৩৬৫৪৭

অতিথি: রুকমিনি ভেমরাজু, প্রোগ্রাম অফিসার, সেমকা, নয়াদিল্লী, ভারত

সহায়ক:

  1. অভিষেক দাস, রেডিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কোলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
  2. মোঃ আবু নওশের, বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা
  3. আব্দুস সবুর খান চৌধুরী, বাংলাদেশ বেতার
  4. মোঃ আবুল হোসেন, বাংলাদেশ বেতার
  5. সাইফুদ্দিন সবুজ, রেডিও ভেরিতাস

সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার: সুমন কুমার রায়, প্রকীর্তি মিডিয়া

কোর্স সমন্বয়ক: মোঃ আঃ হালিম, প্রোগ্রাম অফিসার, রূপান্তর

প্রথম দিন: ০৮ জুন ২০০৯

সময়: রাত ৯.০০ টা।
বিষয়: ওরিয়েন্টেশন
রাতে সকল অংশগ্রহণকারী হোটেলে রিপোর্ট করার সময় জানিয়ে দেওয়া হয় যে, রাত ন'টায় কনফারেন্স রুমে এ কোস সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

ওরিয়েন্টেশনে সেমকার প্রোগ্রাম অফিসার রুকমিনি ভেমরাজু, কোর্স সহায়ক অভিষেক দাস, সাইফুদ্দিন সবুজ এবং সমন্বয়ক মোঃ আঃ হালিম সকল অংশগ্রহণকারীকে স্বাগতঃ জানিয়ে এ কোর্সের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন।

রুকমিনি ভেমরাজু বলেন, এ কোর্স থেকে আমরা কমিউনিটি রেডিওর জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করবো। আশা করছি চারটি ভাল প্রোগ্রাম তৈরি করা যাবে এ কোর্স থেকে। এ কোর্স থেকে যে চারটি প্রোগ্রাম তৈরি হবে তা সেমকার ওয়েবপেজে আপলোড করা হবে। সুতরাং প্রোগ্রাম তৈরি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের অনেক যত্নবান হতে হবে।

অভিষেক দাস বলেন, রেডিও প্রোগ্রাম তৈরির কথা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এ কাজ আমাদের করতে হবে। যে কাজ আমরা করবো তা' হাতে কলমে শেখার জন্যই এ প্রশিণ কর্মশালা।

সাইফুদ্দিন সবুজ বলেন, এ কোর্সটি বিগত জানুয়ারি মাসে হওয়া কোর্সেরই ধারাবাহিকতা। এখানে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবো। আমরা রেডিও প্রোগ্রাম তৈরির কাজটা খুব সহজ করে শিখবো বলেই এখানে এসেছি। কারও কোথাও বোঝার ঘাটতি থাকলে আমাদের সহায়কবৃন্দ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন তা বোঝানোর জন্য। প্রশিণার্থীদের দায়িত্ব হবে এটা বুঝে নেওয়া।

মোঃ আঃ হালিম বলেন, আপ্রাণ চেষ্টা সত্বেও এ কোর্সে লজিস্টিক এবং অন্যান্য সাপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ঘাটতি থেকে যেতে পারে। আমাদের সবাইকে মিলেই এ ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

দ্বিতীয় দিন: ০৯ জুন ২০০৯

সময়: সকাল ৯.৩০ টা
বিষয়: উদ্বোধনী ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথি এবং সহায়কবৃন্দ আসন গ্রহণ করেন। কোর্স সমন্বয়কারী এ কোর্সে সকলকে স্বাগত জানিয়ে নিজ নিজ পরিচয় বর্ণনার আহ্বান জানান।

অংশগ্রহণকারীসহ সকলে নিজ নিজ পরিচয় উপস্থাপনের পরে শুরু হয় উদ্বোধনী পর্ব।

সহায়ক সাইফুদ্দিন সবুজ বলেন, গত জানুয়ারী মাসে ৪টি গ্রুপে ভাগ হয়ে ৪টি কাজ করেছিলাম। এবারও কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করব।

সহায়ক আবু নওশের বলেন, এ প্রশিণ কর্মশালার অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে হচ্ছেন এক একজন অনুষ্ঠান প্রযোজক। আর প্রযোজক হচ্ছেন একজন প্ল্যানার এবং এঙ্কিউটর। প্রযোজককে স্বপ্ন দেখতে হবে, পরে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। মোধা, মনন ও চিন্তার বিকাশ/আইডিয়া বিল্ড আপ করতে হবে। কারা আমার শ্রোতা সে বিষয়ে খেয়াল রেখে তাদের কথা চিন্তা করতে হবে। নিজের আচার-ব্যবহার প্রয়োগের েেত্র প্রয়োজনে নিজের আচার-ব্যবহার পরিবর্তন করতে হবে।

সহায়ক আবুল হোসেন বলেন, জীবনের প্রতিটি দিক নিয়ে বেতার কাজ করে থাকে। তাই, সাধারণ গ্রামের মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে। কোন ধরণের মানুষকে কি ধরণের অনুষ্ঠান উপহার দেবেন, তা আগে ভেবে নিতে হবে। জনগনকে মটিভেটেড করাই হচ্ছে একজন প্রযোজকের উদ্দেশ্য।

ওয়ার্কশপের অন্যতম সহায়ক অভিষেক দাস বলেন, পাণ্ডুলীপি লেখা একটা বড় বিষয়। নিজের ভাবনাটা কিভাবে শ্রোতাদের কাছে পেঁৗছে দেয়া যায়, সেটাই চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

রূপান্তর ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট-এর প্রধান জান্নাতুল ফেরদৌস রেখা অংশগ্রহণকারীদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নিজের জ্ঞান অন্যের মাঝে যত সহজে বিলিয়ে দেয়া যায় সেটা রেডিও ছাড়া অন্য কোন মিডিয়ার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়।

সেমকা'র প্রোগ্রাম অফিসার রুকমিনি ভেমরাজু নিজের এবং সেমকা প্রধান ডঃ শ্রীধর-এর প থেকে উপস্থিত সকলকে শভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ভারতে কমিউনিটি রেডিও'র ধারনাটা ভারতের প্রায়াতঃ প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীই দিয়েছিলেন। ৩জন মারুষের পইে এখন ১টি কমিউনিটি রেডিও পরিচালনা করা সম্ভব। তিনি বলেন, কমিউনিটি রেডিও'র লাইসেন্স পাওয়ার আগেই অনুষ্ঠান তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। তা' না হলে লাইসেন্স পেয়ে গেলে কাজ শুরু করা যাবে না।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে দেওয়া হয় চা বিরতি।

চা বিরতি শেষে শুরু হয় প্রশিক্ষণ কর্মশালার মূল পর্ব।

সাইফুদ্দিন সবুজ বলেন, আমরা কমিউনিটি রেডিওর অনুষ্ঠান তৈরির সময় আমাদের চিন্তাকে খুবই সাধারণভাবে গোছানো অবস্থায় নিয়ে আসবো। এর ফলে আমাদের শ্রোতারা সহজেই বুঝতে পারবেন আমরা কী বলতে চাই। রেডিও প্রোগ্রাম'এ সাঊণ্ড এ্যাফেক্ট ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মনে রাখতে হবে যে শ্রোতারা আমাদের দেখতে পারছেন না। তারা যেন আমাদের অনুভব করতে পারেন সে-টা নিশ্চিত করতে হবে।

অভিষেক দাস বলেন, আমরা কোন বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান করবো তা' নির্ধাণ করাটা একটা শক্ত কাজ বলে মনে হতে পারে। আমরা সাধারণ মানুষ জীবনটাকে যে ভাবে ভাবি, গুণীজনরা অন্যভাবে ভাবেন, সেভাবে আমাদেরকে ভাবতে শিখতে হবে। যে কোন বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ভাবতে হবে। আমরা একটা বড় বিষয়কে ভেঙে অনেক ছোট ছোট বিষয় নির্ধারণ করতে পারি এবং সেই ছোট বিষয়কে নিয়ে একটা করে অনুষ্ঠান তৈরি করতে পারি। এ প্রসঙ্গে তিনি অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে বিষয়বস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া হাতে-কলমে উপস্থাপন করেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে যে বিষয়টি নির্ধারিত হয় তা' হচ্ছে- 'স্বাস্থ্য'। অভিষেক বলেন, এবার 'স্বাস্থ্য' বিষয় নিয়ে ভাবতে শিখি। স্বাস্থ্য এর জন্য কি কি বিষয় আসতে পারে তা লিপিবদ্ধ করি। যেমন ঃ- সুস্থতা, উদ্যম, এনার্জী, রোগী, অসুখ/রোগ, চিকিৎসা,ডাক্তার/হাসপাতাল, ঔষধ, ইত্যাদি। এবারে সুস্থতাকে বিশ্লেষণ করি। সুস্থতা- স্বাভাবিক কার্যমতা, সতঃস্ফুর্ততা, শৃঙ্খলা, নীরোগ জীবন, পরিচ্ছন্নতা, প্রতিভা বিকাশ, সৃষ্টিশীলতা, পুষ্টি, খেলাধূলা, শিা, বংশবিস্তার, অর্থ, সাইলেন্ট ঘুম, সচেতনতা ইত্যাদি।

অনুষ্ঠান করবার আগে কখনও স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করা ঠিক না। প্রথমে বিষয় নির্ধারণ - তারপর ঐ বিষয়ের ভিতরে কোন কোন বিষয় আছে কতা ভাগ করে নিতে হবে। যেমন ধরুন - স্বাস্থ্য বিষয়ে সাাৎকার নিতে - ডাক্তার - রুগী - স্বাস্থ্য কর্মকর্তা - এন জি ও - এবং হেকিম। চিকিৎসা - ডাক্তার - - অর্থ - ঔষধ - ঔষধের ধরণ - ঔষধের মাত্রা।

যে কাজটা করতে হবে সেটা স্থানীয় জনগণের সাহায্য নিয়ে করতে হবে। 'আমাদের রেডিও' বলা জনগণকে শেখাতে হবে, আপনাদের রেডিও বলানো যাবেনা।

জনগণকে বোশী বেশী সেবা দিতে হবে, যাতে মানূষ রেডিওতে আসে । প্রথমে ১০০০ জন লোক বাছাই করতে হবে, তার থেকে ১০০ জন, সেই ১০০ জন থেকে ১০ জন লোক ছলে বলে কৌশলে যে কোন প্রক্রিয়ায় সে রেডিওতে আসে, সে চেষ্টা করেতে হবে। তাদের কাজ খারাপ হলেও বলতে হবে, ভাল হয়েছে, সুন্দর হয়েছে। কাউকে কষ্ট দেয়া যাবেনা। যারা নিজ উৎসাহে বিনা মুজুরীতে রেডিওতে আসতে আগ্রহী তাদেরকে আগে খুঁজে বোর করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন সবুজ সম্পূরক বিষয় উপস্থাপনকালে বলেন, অনুষ্ঠান করতে যারা যারা সম্পৃক্ত সে সব লোকালিটিকে কোন কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাদের একটা লিস্ট আগে ভাগে তৈরী করে নিতে হবে। তাদের মধ্যে থেকে কার কথা জনগণ বেশী আগ্রহ সহকারে শ্রবণ করেন, তাদের দিয়ে প্রোগ্রাম করাতে হবে। তথ্য প্রচারের জন্য প্রতিনিয়তঃ আপ ডেট করে দেশী-বিদেশী তথ্য সংগ্রহ করেতে হবে। গান প্রচার করতে গানের পেছনেও কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী সাউণ্ড এ্যাফেক্ট কম্পোজ করলে ভাল হবে। দেশী-বিদেশী সকল প্রকারের গান সংগ্রহে থাকতে হবে। মিউজিক আর্কাইভ ও সাউণ্ড এ্যাফেক্ট আর্কাইভ থাকতে হবে।

অভিষেক বলেন, সর্বদাই স্মার্ট হয়ে দ্রুততার সাথে রেডিও'র জন্য প্রোগ্রাম সমপন্ন করতে হবে। সবচেয়ে প্রথম কাজ শ্রোতাদের ধরে রাখতে হবেই। এই ধরে রাখতে প্রথমে - স্কুল/মাদ্রাসা/আশ্রম/এতিমখানা - যেখানে অনেক বাচ্চা/শিশু থাকে। খেলার মাঠ/অনুষ্ঠান - সেখানে অনেক লোকের সামাগম হয়। স্বাস্থ্য ক্যাম্প - সেখানেও অনেক লোকের সামাগম হয়, এমনকি সেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও এসে থাকেন। রেডিও'র ফ্রিকুয়েন্সির মধ্যে ২৫টি স্কুল থাকতেও পারে, তাদের কভার করতে পারলে ভাল শ্রোতা পাওয়া সম্ভব। এলাকায় কখন কি হচ্ছে, তাও প্রচার করতে হবে। এলাকার সকল ধরণের খেলা প্রচার করতে হবে। হার্ড-রক অনুষ্ঠানে - হোস্ট/আপ্যায়নকারীকে গানের ফাঁকে ফাঁকে ৪০ থেকে ১ মিনিট কথা বলতে হয়। এটা সহজ কাজ। কিন্তু কমিউনিটি রেডিওর েেত্র একাজগুলো একেবারেই করা যাবে না।

সহায়ক আবু নওশের বলেন, প্রযোজক হচ্ছে একজন - লিডার, নাবিক ও গবেষক। ধরুন -

  1. প্রডিউসার এ্যাজ এ প্লানার
  2. প্রডিউসার এ্যাজ এ কো-অর্ডিনেটর
  3. প্রডিউসার এ্যাজ এ টিচার
  4. প্রডিউসার এ্যাজ এ রিসোর্সার
  5. প্রডিউসার এ্যাজ এ এ্যাকাউন্টেন্ট
  6. প্রডিউসার এ্যাজ এ কমিউনিকেটর
  7. প্রডিউসার এ্যাজ এ পাবলিক রিলেশনার ম্যান
  8. প্রডিউসার এ্যাজ এ সাইকোলজিস্ট
  9. প্রডিউসার এ্যাজ এ ইন্টারটেইনার

পাণ্ডুলিপি রচনা কৌশল বিষয়ে সহায়ক আবু নওশের বলেন, ধরা যাক আমরা একটি নাটক করব। নাটকটি হবে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে। পরিবার পরিকল্পনাকে ১ নং সমস্যা ধরে নিয়ে সে বিষয়ে নির্ধারণ করে স্ক্রীপ্ট তৈরী করতে হবে। নাটকের মধ্যে নির্যাতিতা সদ্যজাত মেয়ের কাছে বাবার মা প্রার্থনা ও কোলে নিয়ে অনুশোচনার বিষয় থাকলে ভাল হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে এলাকার যে কোন একটা কৌতুক সংযোজন করা যেতে পারে। ভুল তথ্য না যায় সেদিকে তী্ন খেয়াল রাখতে হবে এবং সেদিকটা পরী করে দেখতে হবে। নতুন নতুন তথ্য দিতে হবে।

পান্ডুলিপি লিখতে গেলে যে বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে তা' হচ্ছে-

  • কি বলব?
  • কেন বলব?
  • কাকে বলব?
  • কেমন করে বলবো?

আমরা যাদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানটি তৈরি এবং প্রচার করবো তা' যেন তাদের উপযোগী হয়। যাদের জন্য অনুষ্ঠানটি তারা যদি তা' থেকে সঠিক মেসেজ না পায় তা' হলে অনুষ্ঠানটি মাটি হবে এবং আমাদের রেডিও'র উপর থেকে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

তৃতীয় দিন: ১০ জুন ২০০৯

সময়: সকাল ৯.০০ টা।
বিষয়: মূল প্রশিক্ষণ অধিবেশন

দিনের শুরুতে কোর্স সমন্বয়ক সকল অংশগ্রহণকারীর নিকট থেকে তাদের স্ব স্ব স্ক্রিপ্টগুলো সংগ্রহ করে তা' বাছাই করার জন্য সহায়কদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের কাছে প্রদান করেন। বোর্ড এসব স্ক্রিপ্ট থেকে সেরা ৪টি বাছাই করে তা' রেকর্ডিং করার ব্যবস্থা করবেন।

যখন স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ের কাজ চলছিল তখন সহায়ক অভিষেক দাস রেকর্ডিং এবং এডিটিং সফ্টওয়ার ব্যবহার করার বিষয়ে সাম্যক ধারণা দেন। তিনি রেকর্ডিং এবং এডিটিং-এর জন্য যে সফটওয়্যারটি নিয়ে আলোচনা করেন- সনি সাউন্ড ফোর্জ ৮.০ স্যাম্পল রেট - ৪৪.০ বিট ডেপ্থ - ১৬ বিট চ্যানেল - ড্রাই আউট - ০.০ তিনি জানান, মনো'তে- ১টা স্পিকার ব্যবহার করা হয়, স্টেরিও'তে ২টা স্পিকার ব্যবহার করা হয় । একটিতে একরকম অন্যটিতে অন্যরকম সাউন্ড আউটপুট হয়।

'ইফেক্ট' মেনু থেকে

  • গলাটা দৈব বাণীর মত করতে -' রিভার্ব 'এ গিয়ে - রিভার্বেশন মোড ওকে করতে হবে।
  • গলার স্বর পরিবর্তন করতে - - 'পিচ'এর স্পিড বাড়িয়ে বা কমিয়ে ব্যবাহার করতে হয়।

ক) বেন্ড - সরিয়ে খ) শিফ্ট - সরিয়ে নেয়া

একটি কথাকে ইকো করতে - ডিলে বা ইকো কোরাস করতে ব্যবহার করে - ইফেক্ট প্রসেস - মিউট হাই লাইট করে - ফেড আউট - ফেড ইন - মিঙ্ করতে হয়।

কোন কাজের শব্দ ফেঁটে যাওয়ার মত হলে - প্রসেস এ গিয়ে নরমালাইজ করতে হবে। স্পেশিয়াল - এম টি'তে সিলেক্ট করে রাখতে হয়। ইকুইলাইজার - ইহা ব্যবহার ঃ- বাম দিকে 'বেজ' থাকে- লো ফ্রিকুয়েন্সি ডান দিকে থাকে - হাই ফ্রিকুয়েন্সি। প্রয়োজনমত এটা উঠিেেয় বা নামিয়ে সঠিক কাজ করতে হয়। প্যান/এঙ্পান্ড ব্যবহার ঃ- দুই স্পিকারের মধ্যে খেলা করাতে অর্থাৎ দুইটি বিষয় দুই স্পিকার থেকে আউট হয়। 'প্রিভিউ' - যে কোন কাজ করে ফাইনাল করার পূর্বে কাজটি ঠিকভাবে হয়েছে কি/না দেখার করার জন্য, অবশ্যই প্রিভিউ ব্যবহার করতে হবে। রেকর্ড করতে 'আর' টিপতে হয় ফাইল মেনুতে - নাউ উই আর ফ্রি- ফাইনাল কাজ ফাইনালি সেভ এ্যাজ করতে হয়। রেডিও'র কাজ - এম পি'৩ অডিও'তে সেভ করতে হয়। এম পি ৩'তে - বেশী রেকর্ড করা য়ায় তবে, তাতে ফাইলের কোয়ালিটি কমে যায়। এম পি ৩'তে ২৫৬. কেবিপি এস হয়ে থাকে। অডিও সিডিতে ওয়েব ফরমেট থাকে। এতে বেশী গান রেকর্ড করা যায়না। কোন সি ডি খুলতে - 'ইফেক্ট অডিও ফ্রম সি ডি' কমান্ড ব্যবহার করতে হয় ।

অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করে সফটওয়্যারটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করেন।

অভিষেক দাসের ক্লস শেষ হওয়ার আগেই সেরা স্ক্রিম মনোনয়নের কাজ শেষ হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয় যে, চারটি নয়, ছয়টি স্ক্রিপ্ট রেকর্ডিং করা হবে। নিজেরাই নিজেদের স্ক্রিপ্টে কন্ঠ দেবেন। তবে শর্ত দেওয়া হয় যে, কোন কিছুই ডামি করা যাবে না। সব কিছুই লাইভ করতে হবে।

অনুষ্ঠান তৈরির মজার মজার ঘটনাবলী (রেকর্ডিং পর্ব):

  • দুপুরের আহারের আগেই শুরু হয়ে যায় অনুষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা। সিসিডি বাংলাদেশ-এর অনুষ্ঠানটি হবে মাদকাসক্তদের নিয়ে। সুতরাং আউটডোরে শব্দ ধারণ করতে হবে। সাাতকার নিতে হবে মাদকাসক্ত আর চিকিৎসকের। সুতরাং দায়িত্ব সমন্বয়কের। মুনড্রপস কিনিকের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে ফোন করে সমস্যার সমাধান হয়। গ্রীষ্মের তীব্র রোদে রিক্সায় করে ছুটতে হয় সেখানে। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরম কান্ত করতে পারে না পল্লবী দে আর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সুমন কান্ত হলেও অনুষ্ঠান ভাল করার নেশায় মশগুল সিসিডি বাংলাদেশের দুই কর্মীর কোন ক্লন্তি নেই, ক্ষুধা নেই। দু'জন চিকিৎসাধীন মাদকসেবীর সাক্ষাৎকার শেষে একজন চিকিৎসকেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া কাজ হয় সেখানে।
  • স্টেপস-এর মমতাজ জীবনে প্রথম এ ধরণের প্রশিণ নিতে এসেছে। স্ক্রিপ্ট লেখেনি কখনও। সকলের সহযোগিতা নিয়ে সেও তৈরি করে ফেললো একখানা ভাল স্ক্রিপ্ট। এখন সে স্ক্রিপ্ট কম্পোজের পালা। দুপুর থেকেই সে কম্পিউটারে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে যাওয়ার পরেও মমতাজ এক মনে কাজ করে যাচ্ছে। পাশে রেকর্ডিংয়ের হৈ হুল্লোড়ও তার কাজে বাধা হয়ে উঠতে পারেনি।
  • আরডিআরএস-এর অনুষ্ঠান হবে পরিবেশ নিয়ে। সে অনুষ্ঠানে লাগবে একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞর সাাৎকার। কিন্তু কোথায় পাওয়া যাবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ? যেহেতু ডামি ব্যবহার করা যাবে না তাই বড্ড মুশকিল হয়ে গেল। শেষাবধি সমস্যা সমাধানের উপায় বাতলে দিলেন সহায়ক সাইফুদ্দিন সবুজ। পরিবেশবিদ না হলেও এ কোর্সের সমন্বয়ক একজন পরিবেশ কমর্ী, সুতরাং তার সাাৎকার দিয়েই কাজ চালাতে হবে।
  • আরডিআরএস-এর অনুষ্ঠানে আছে নাটক-ও। কিন্তু অভিনেতা অভিনেত্রী কই? সমস্যা নেই কোন। সিসিডি বাংলাদেশের পল্লবী আর রূপান্তর-এর সিরাজুস সালেকীন সে অভাব দূর করলেন। সিরাজুস সালেকিন শুধু আরডিআরএস-এর নয়, আরও বেশ কয়েকটা নাটকে কাজ করলেন। রূপান্তর-এর বনানী দাশগুপ্ত বাসন্তীও অন্যদের নাটকে অভিনয় করেন।
  • স্টেপস-এর মমতাজ তার স্ক্রিপ্ট রেকর্ডিং করতে এলেন। জীবনে প্রথম রেকর্ডিং মাইক্রোফোনের সামনে দাড়ালেন। পা কাঁপছিল তার। ফলে বসে বসে রেকর্ডিং করতে হলো। কিন্তু রেকর্ডিংয়ের সময় হাতের স্ক্রিপ্টগুলোকে দেখা গেল কাঁপছে।
  • প্রয়াস-এর অনুষ্ঠান গম্ভীরা বিষয়ক। কিন্তু এর সিগনেচার টিউন কী হবে? সহায়ক আবু নওশের সিদ্ধান্ত দিলেন আমরা-ই গান গাইবো সিগনেচার টিউনের জন্য। রেকর্ডিং হলো সিগনেচার টিউন।
  • আবার স্টেপস-এর মমতাজ প্রসঙ্গ। তার ন্যারেশন রেকর্ডিং হয়ে গেছে। কিন্তু তার অনুষ্ঠানের মূলই নাটক। নাটকের রেকর্ডিং হয়নি রাত ১১.০০ বেজে যাওয়ার পরেও। হঠাৎ রূপান্তর-এর নাটক রেকর্ডিং করতে রূপান্তর ইন্সটিটিউট অব ফোক থিয়েটার-এর শিল্পীরা এলেন ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপক আখতারুন্নেসা নিশার নেতৃত্বে। রূপান্তর-এর নাটক রেকর্ডিংয়ের পর মমতাজ রূপান্তর-এর শিল্পীদের দিয়েই তার নাটক রেকর্ড করালেন।

অনুষ্ঠান তৈরির মজার মজার ঘটনাবলী (সম্পাদনা পর্ব):

  • রেকর্ডিং-এর জন্য একটা প্যানেল থাকলেও সম্পাদনার জন্য ছিল তিনটি প্যানেল। এর মধ্যে সম্পাদনায় এঙ্পার্ট তিনজন। সহায়ক অভিষেক দাস, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সুমন কুমার রায় এবং রূপান্তর-এর সুমন গোমেজ। রেকর্ডিং প্যানেলে রাত সোয়া ১২টা অবধি রেকর্ডিং-এর কাজ চললেও যাদের রেকর্ডিং আগেই শেষ হয়ে গেছে তাদের সম্পাদনার কাজ শুরু হয়ে যায় সন্ধ্যাবেলা। সিসিডি বাংলাদেশের পল্লবী আর মোস্তাফিজ আগেই বুক করে ফেললেন সুমন রায়কে। তারা কাজ শুরু করলেন। কাজ করছেন, কাজ করছেন.........। রাতে নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে তারা গেলেন আহার করতে। সবাই ভাবলো কাজ শেষ তাদের। কিন্তু না। খাওয়ার পরও তারাই। রাত ১২.০০ টা বেজে গেল। তবু কাজ চলছে। রাত দু'টোর দিকে পল্লবী উঠলেন সম্পাদনা টেবিল ছেড়ে। সবাই ভাবলো এবার মনে হয় কাজ শেষ। কিন্তু মোস্তাফিজ তখনও সম্পাদনা টেবিলে। কিছু সময় পরে পোশাক বদলে ফিরে এলেন পল্লবী। আবার কাজ। তাদের কাজ শেষ হলো রাত চারটেরও পরে।
  • সব শেষে রেকর্ডিং হলো স্টেপস-এর মমতাজের স্ক্রিপ্ট। তার রেকর্ডিং শেষ হতে বেজে গেল রাত ১২ টা। কিন্তু রাত একটার মধ্যেই সম্পাদনা শেষ করে দিবি্ব সবার আগে বিছানায় গেলেন মমতাজ।
  • এ প্রশিণের আয়োজক রূপান্তর-এর অনুষ্ঠান সম্পাদনার কাজ প্রায় শেষ। অনুষ্ঠানের সিগনেচার টিউন আগেই নির্ধারণ করে রাখা। একটা গান হবে এর সিগনেচার টিউন। গানটি সেভও করা। কিন্তু প্রায় দু' ঘন্টা ধরে কম্পিউটার খুঁজেও পাওয়া গেলনা সে গানটা। ভোর সাড়ে ছ'টায় সে গান ছাড়াই মানে সিগচোর টিউনহীনভাবেই অনুষ্ঠানের সম্পাদনা শেষ হলো রূপান্তর-এর।
  • এর মাঝে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সুমন রায়ের দামী ল্যাপটপ হঠাৎ বিকল হয়ে পড়লো। ভাইরাসের কর্ম এটি বোঝার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাকে সচল করা গেল।


চতুর্থ দিন: ১০ জুন ২০০৯

সময়: সকাল ৯.৩০ টা।
বিষয়: প্রশিক্ষণ, টিপস এবং তৈরি করা অনুষ্ঠানের চুল চেরা বিশ্লেষণ

শুরুতে সহায়ক আব্দুস সবুর খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা এসেছেন তাদেরকে ও রূপান্তরকে ধন্যবাদ। প্রতিটা কাজের মূল বিষয়ের উপর ধারণা থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। মূল বিষয় হচ্ছে - কাজের প্রতি আস্থা ও গর্ব থাকতে হবে। ভাল রেডিও অনুষ্ঠান তৈরি করতে গেলে বেশী বেশী পড়তে হবে। এমনকি সংবাদপত্রের টেণ্ডার নোটিশ, হারান বিজ্ঞপ্তিসহ হাতের কাছে যা কিছু পাওয়া যাবে তা পড়তে হবে। প্রতিটা দিন ভাবতে হবে - ভোরের সূর্য মনি আমাকে ডাকছে ।

তিনি বলেন, প্রযোজকের দায়িত্ব হচ্ছে - যার মধ্যে নূন্যতম প্রতিভা রয়েছে, তাকেই তুলে এনে প্রতিষ্ঠিত করা। পরিমিতি বোধ, প্রতিভা চয়ন অাঁখি, ও নিজের বাচনে শুদ্ধ উচ্চারণ থাকতে হবে।

প্রচুর শুনতে হবে, এবং দেখতে হবে। বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা জ্ঞান থাকতে হবে, এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ থাকতে হবে।

প্রতিটা বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতে হবে। তারপর তা প্রকাশ করতে হবে। যেমন- আইলার পর কি হতে পারে তা জনগনকে আগাম ধারণা দিতে হবে।

শ্রোতদের যে বিষয় বোঝাতে হরে, সে বিষয়ে পরবর্তীতে কি হবে তা শ্রোতাদের জানিয়ে দিতে হবে। সে বিষয়ে শ্রোতাদেরকে ভাবতে শেখাতে হবে।

সাক্ষাৎকার নেওয়ার পূর্বে সাক্ষাৎকার কোন ব্যক্তির নিতে যাচ্ছি, তাঁর কর্মজীবন সম্পর্কে পূর্ব ধারনা সংগ্রহ করে নিতে হবে।

মূল বিষয়ের দিক চলে যেতে হবে।

সব সময় জনগনকে তাঁর নিজের পেশার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।

বিনোদন ও শিার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে। ভূমিকা যেন বেশী না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সি এন এন, রেডিও ও টিভি'র সাাৎকার শুনতে ও দেখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সহায়ক আবু নওশের সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত'এর সাাৎকার নেয়ার বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন।

আব্দুস সবুর খান চৌধুরী বেতারে বাচ্চাদের অনুষ্ঠান পরিচালনার সময় বিব্রতকর পারিস্থিতির কথা প্রকাশ করেন।

সাইফুদ্দিন সবুজ বলেন, যে কোন কাজের পূর্বে হোম ওয়ার্ক করতে হৰে। সে বিষয়ে ধারনা অর্জন করতে হবে। দুটি বিষয় - দুটি 'স' ও 'শ' বিষয়ে সচেতন হতে হৰে। 'স' = ও 'শ' = অন্যের কথা শ্রবন করার মানুষ হতে হবে। মানুষের সাাৎকার নিতে নিজে আগে মনঃবিজ্ঞানী হতে হবে।

তৈরি করা অনুষ্ঠানের চুল চেরা বিশ্লেষণ ঃ

১) ব্রাক:
আঃ সবুর খান চৌধুরী বলেন, ষ্টেশনের পরিচয় দেয়ার সময় অবশ্যই ফ্রিকুয়েন্সি নং বা সংখ্যা বলতে হবে। অনুষ্ঠান ঘোষনার শুরুতেই বলতে হবে - "এ মুহূর্তে যারা নিজ কর্মে ব্যস্ত রয়েছেন, আসুন না কয়েক মিনিটের জন্য কান রাখি রেডিও রূপান্তর এফ এম .৮৬৭ মিটারে"। আবু নওশের বলেন- নাটকটি একটি বিষয় নিয়ে করলে শ্রোতাদের বুঝতে সহজ হবে। অনুষ্ঠান শুরুর আর অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তের মিউজিক (সিগনেচার টিউন) একই হওয়া দরকার।

২) সি সি ডি (রাজশাহী) রেডিও পদ্মা - তরুণের কথা।
আবু নওশের বলেন - শেষ মিউজিক ছিল না। সাাৎকার যে স্থানে সেই স্থানে গিয়েই সাাৎকার নিতে হবে। আবুল হোসেন বলেন - প্রথম হিসাবে ভাল হয়েছে। সাইফুদ্দিন সবুজ বলেন - উপস্থাপনা দ্রুত পড়া হেয়েছে। সাা্ৎকার গ্রহণকারীর কথা হঠাৎ পাঠ্য বইয়ের ষ্টাইলের হয়ে গেছে। আবহ সঙ্গীত ব্যবহারে আরো সচেতন হওয়া দরকার।

৩) নলতা (সাতীরা ) হাসপাতাল - জীবনের জন্য চলা
আবুল হোসেন বলেন - মিউজিক ব্যবহার অসঙ্গতীপূর্ণ। আব্দুস সবুর খান চৌধুরী বলেন -সাাৎকারের সময় প্রশ্নউত্তর দাতার কথায় প্রশ্নকারীর বারবার সম্মতি প্রদান দৃষ্টিকটু। ন্যারেশনের পাশাপাশি প্রশ্নকারীর কণ্ঠ/বক্তব্য সামঞ্জস্য থাকতে হেবে। আবু নওশের বলেন - সাাৎকার গ্রহণকারী-প্রদানকবারী দুজনেরই কণ্ঠ দু'জায়গা থেকে হতে হেবে। গ্রহণকারীর কণ্ঠ যেন কখনই ফোন'এ না হয়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৪) প্রয়াস - আলোর দিশা - গম্ভীরা
আবু নওশের বলেন - সুন্দর হযেয়ছে। আবুল হোসেন বলেন - বাস্তবভিত্তিক হয়েছে। বিষয় নির্দ্ধারনের জন্য ধন্যবাদ। আব্দুস সবুর খান চৌধুরী বলেন - ইংলিশ মিউজিক দেয়া ঠিক হয়নি। তাড়াহুড়া করে শেষ করার হয়েছে।

৫) আর ডি আর এস - রেডিও চিলমারী
আবুল হোসেন বলেন - সময় উপযোগী ও উপস্থাপনা ভাল। আব্দুস সবুর খান চৌধুরী বলেন - চমৎকার গতি ছিল। খুবই ভাল লেগেছে। তবে গল্প দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হতে হবে।

৬) রেডিও রূপান্তর এফ এম
নিজেই হোস্ট বিধায় তাদের সমালোচনা করা হয়নি। তবে নাটক শুরুর আগে জলোচ্ছাসের শব্দ দেওয়া ঠিক হয়নি।

তবে, সমালোচনা পর্বে সাউন্ড এ্যাফেক্ট'এর জন্য সাইফুদ্দিন সবুজ তাদের কারিগরি ত্রুটির কথা স্বীকার করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠান:

অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক মোঃ আঃ হালিমের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। প্রথমেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এ প্রশিণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা। ব্রাক-এর মোঃ মেহেদী হাসান বলেন - তিন দিনের কর্মশালায় ৮৫% ধারনা অর্জন করেছি। তবে পূর্বেরটায় অংশগ্রহণ করতে পারলে, ভাল হতো।

নলতা হাসপাতালার সদস্য জনাব আসলাম বলেন - এবারের ট্রেনিং'এ গুণী ও সুধীজনদেও মধ্যে ওয়ার্কশপ করতে পেওে উপকৃত হয়েছি। রূপান্তরের অবদান ও ব্যবহার খুব ভাল।

ব্রাক-এর জয়নব বলেন, এটা আমার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। আমি এখান থেকে যা' অর্জন করলাম তা' বাস্তবে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে চাই। আশা করি তা' আমি পারব।

সিসিডি বাংলাদেশ-এর পল্লবী দে বলেন - রূপান্তরের কর্মীরা ও সেম্কার সহযোগীতা খুব ভাল লেগেছে।

আর ডি আর এস-এর সাবরীনা বলেন - আমরা সুখী হয়েছি। আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা পেলে রেডিও প্রোগ্রাম ভাল করব।

স্টেপস-এর মমতাজ বলেন - আমি জানতাম না কিভাবে কি করা যায়। তা সবার আন্তরিকতায় শেখানো, বোঝানতে খুব তৃপ্ত হয়েছি।

প্রয়াস-এর মনিরুল বলেন - এখানে এসে জানতে পারলাম যে স্ক্রীপ্ট লিখতে হবে। যেটুকু ট্রেনিং পেয়েছি, লাইসেন্স পেলে নিশ্চয়ই অনুষ্ঠান ভাল করতে পারব।

সহায়ক অভিষেক দাস বলেন - সফ্ট ওয়ার নিয়মিত চর্চা করবেন। শ্রোতার কান দিয়ে শুনুন এবং দর্শকের চোখ দিয়ে দেখুন। নিজের চিন্তা শক্তি বৃদ্ধি করুন। পত্রিকা পড়ুন, এখন থেকে আপনার নিজের শ্রোতাদেও খুঁজতে চেষ্টা করুন।

সহায়ক সাইফুদ্দিন সবুজ বলেন - আপনারা অংশগ্রহণকারীরা আমাদের সহযোগিতা নেয়ার চেষ্টা করেছেন, সেজন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী সাইদুর রহমান সাইদ বলেন - সবুর ভাইয়ের উপস্থিতি এরকম ওয়ার্কশপকে ভাল কিছু দান করেছে, এবং আগামীতে আরও কিছু দিবে এটা আমার আশা। যদিও মনে হয়, দেশে সৃজনশীল মানুষের সংখ্যা খুবই কম, তবে এখানে আপনারা সৃজনশীলতায় ভরপুর।

আবুল হোসেন বলেন - তিন দিন আপনাদেও সঙ্গে থেকে আমার যে পরিবর্তন হেয়েছে, তা আপনাদের থেকে পেয়েছি। আপনাদের আদায় করে নেয়ার ইচ্ছা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

আবু নওশের বলেন - রূপান্তরে আসলে আমি জীবন পাই। এত সুন্দর মননশীল মেধার ব্যক্তিদেও সাথে মেশার সুযোগ পেয়েছি। আনন্দিত হয়েছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ রূপান্তরকে, এই রকম একটা সুন্দর আয়োজনের জন্য।

আব্দুস সবুর খান চৌধুরী বলেন - রূপান্তরকে আমার নিজের মনে হয়। মনে হয়ে আমিরূপান্তরেরই একজন। আমি রূপান্তরের সাথে সমপৃক্ত থাকতে পারলে ধন্য হব। ৬০ বছরের যুবক হয়েও কাজ করতে চাই।

রূপান্তর পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন - অংশগ্রহণকারীদেরকে ধন্যবাদ। সেমকাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এ প্রশিণে সহায়তা দেওয়ার জন্য। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটি রেডিও্থর অভিষেককে ধন্যবাদ এ ওয়ার্কশপে সহায়ক হিসেবে কাজ করার জন্য। আবু নওশের, আব্দুস সবুর খান চৌধুরী, আবুল হোসেন ভাইকে ধন্যবাদ। আমি কমিউনিটি রেডিও'র লার্নার। শ্রোতা আপনারা- একঝাঁক প্রযোজক। কমর্শিয়াল রেডিও থেকে বেরিয়ে এসে এনজিও রেডিও । আবার এনজিও রেডিও থেকে বেরিয়ে কমিউনিটি রেডিওতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। এই ধারা আমরা ভবিষ্যতেও বজায় রাখব।


ওয়ার্কশপ শেষে অভিজ্ঞানপত্র প্রদান অনুষ্ঠান

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আবু নওশের, আঃ সবুর খান চৌধুরী, অভিষেক, আবুল হোসেন, সাইদুল ইসলাম সাইদ, সবুজ, রফিকুল ইসলাম খোকন ও স্বপন গুহ অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করেন।

কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা পর্ব

রূপান্তর-এর প্রধান নির্বাহী স্বপন গুহ কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণাকালে বলেন, সেমকাকে এ আয়োজনে সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। অভিষেককে এবং আবু নওশেরকে রূপান্তরের পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা অতীতে রূপান্তরের একজন বন্ধু কামরুজ্জামান বাদশাকে হারিয়েছি। সবুর ভাই, আবুল হোসেন ভাইতো রূপান্তরের বন্ধু। সবুজ ভাই আমাদের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মহাসচিব, সাইদ ভাইকে উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ। রফিকুল ইসলাম খোকনকে সেমকার সাথে সম্পর্ক তৈরী করতে পরিকল্পনার জন্য শুভেচ্ছা। এবং কমিউনিটি রেডিও'র সেক্টরকে আরও উন্নত করার জন্য ধন্যবাদ। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান এই ওয়ার্কশপে অংশগ্রহন করেছেন, তাদেরকেও ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানান রূপান্তর-এর প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, ষ্টেশনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট'এর জন্য টিম তৈরী করতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা আরও পেলে 'রেডিও ট্রেনিং একাডেমী' সৃষ্টির স্বপ্ন বাস্তবায়ীত হবে, এই আশা রেখে এই পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করছি।



Report on Training Workshop on Community Radio Program Production

Picture of 1st Training Workshop on Community Radio Program Production